বর্ষার সেই বৃস্টির সময়,,

বর্ষার সেই বৃস্টির সময়,,



বৃষ্টি নামল হঠাৎ করেই। দুপুরটা তখনও গরমে ভারী ছিল, কিন্তু মুহূর্তেই আকাশ কালো হয়ে গেল। গ্রামের ছোট্ট পথ ধরে হাঁটছিল রাফি, হাতে একটা পুরনো ছাতা—যেটা আসলে বৃষ্টি ঠেকানোর চেয়ে স্মৃতি বেশি ধরে রেখেছে।

প্রথম ফোঁটা পড়তেই মাটির গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে গেল। রাফি থেমে দাঁড়াল। এই গন্ধটা তার খুব চেনা—শৈশবের, দৌড়ঝাঁপের, আর নির্ভেজাল আনন্দের। সে ছাতাটা খুলল না, বরং মুখ তুলে বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে অনুভব করতে লাগল।


হঠাৎ পাশের বাড়ির বারান্দা থেকে মেয়ে কণ্ঠ ভেসে এল—

“এই! ভিজে যাচ্ছো কেন? অসুস্থ হয়ে যাবে!”

রাফি তাকিয়ে দেখল, মায়া দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দিন পর দেখা। দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, শুধু বৃষ্টির শব্দটা কথা বলছিল।


মায়া হেসে বলল, “আগের মতোই আছো তুমি, বৃষ্টি দেখলেই পাগল হয়ে যাও।”


রাফি মৃদু হেসে বলল, “বৃষ্টি না হলে তো গল্পই জমে না।”


মায়া একটু ভেবে বলল, “তাহলে আজ একটা গল্প শুরু করা যাক?”

বৃষ্টি তখন আরও জোরে নামছে। রাফি ধীরে ধীরে বারান্দার দিকে এগিয়ে গেল। দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল—নতুন গল্পের শুরু যেন ঠিক ওই মুহূর্তেই।

আর বাইরে, আকাশ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি ফোঁটা যেন তাদের অজানা গল্পের পাতা লিখে চলল।



Comments